রাজধানীর খিলক্ষেত ও নিকুঞ্জ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আলোচিত ইসমাইল হোসেন বাবু ওরফে মোফা বাবুকে এবার বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একের পর এক গ্রেপ্তার হলেও প্রভাবশালী রাজনৈতিক আশ্রয়ের কারণে তিনি বারবার জামিনে মুক্ত হয়ে একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।
ডিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (৬ জুলাই) রাত ৮টার দিকে নিকুঞ্জ-২ এলাকার ‘ঢাকা স্পাইস’ রেস্তোরাঁর সামনে মাদক বিক্রির সময় ডিবির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে মোফা বাবুকে হাতেনাতে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
মোফা বাবু খিলক্ষেত থানা এলাকার ৯৬ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব পদধারী বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে অতীতেও চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ ওঠে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও প্রতিবারই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, অতীতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিভিন্ন সংস্থার হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পরও রাজনৈতিক তদবিরের মাধ্যমে মোফা বাবু দ্রুত মুক্তি পেয়েছেন। এরপর আরও বেপরোয়া হয়ে তিনি মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা এ প্রতিনিধিকে বলেন, তাকে গ্রেপ্তার করা হলে এলাকায় কিছুদিনের জন্য স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবারও আগের মতো চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা শুরু হয়। এতে যুবসমাজের একটি অংশ মাদকের ঝুঁকিতে পড়ছে এবং এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তাদের দাবি।
এদিকে মোফা বাবুর বিরুদ্ধে একাধিকবার গুরুতর অভিযোগ ওঠা এবং বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হওয়ার পরও দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে কার্যকর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতা-কর্মী।
তাদের ভাষ্য, বহিষ্কার তো দূরের কথা, প্রকাশ্যে কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি। এর পেছনে প্রভাবশালী একটি মহলের হস্তক্ষেপ রয়েছে বলে তারা মনে করেন।
কেকে/এলএ