মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬,
২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
খোলাকাগজ স্পেশাল
ধুঁকছে কমিউনিটি ক্লিনিক
রবিউল ইসলাম
Publish: Saturday, 4 July, 2026, 9:43 AM
ছবি : খোলা কাগজ

ছবি : খোলা কাগজ

গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৯১ সাল থেকে সারা দেশে ইউনিয়নের গ্রাম পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপিত হয়। কিন্তু এখন ভিন্ন চিত্র। অধিকাংশ ক্লিনিকের ফটকে ঝুলছে তালা। ওষুধ নেই। লোকবল নেই। সেবা নেই। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)-দের বেতন দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় অবস্থা আরও খারাপ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।

সারা দেশে প্রায় ১৫ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। তবে সংস্কারের অভাব, ওষুধসংকট এবং জনবলসংকটে অনেক ক্লিনিকেরই বেহাল দশা। তিন ভাগের এক ভাগ ভবন জরাজীর্ণ। অনেক জায়গায় সরকারি ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকে। সময়মতো কর্মীরা আসেন না। ফলে প্রান্তিক মানুষ সেবাবঞ্চিত হচ্ছেন। সেবা না পেয়ে রোগীকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলায় ১৮৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিক থেকে সেবাপ্রত্যাশী ১১ লাখ মানুষ। তবে রোগীদের ভাষ্যমতে, ক্লিনিকগুলোতে ২২ ধরনের ওষুধ থাকার কথা। কিন্তু এসব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ওষুধ নেই বললেই চলে। হাতেগোনা কয়েকটি ক্লিনিকে সীমিত পরিসরে কয়েকটি ওষুধ পাওয়া গেলেও বেশিরভাগ ক্লিনিকে কার্যত ওষুধশূন্য অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিনই এসব ক্লিনিকে বিভিন্ন ধরনের রোগী এলেও তাদের প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয় না। প্যারাসিটামল, মেট্রিল আর স্যালাইন ছাড়া তেমন কোনো ওষুধ পান না রোগীরা।

বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলায় ৫৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম শুরু হলেও ৫২টি ক্লিনিকে কর্মরত রয়েছেন ৫২ জন সিএইচসিপি। ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে প্রতিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিদের বেতন বন্ধ থাকায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে ক্লিনিকগুলো। কোনো কোনো কেন্দ্র সপ্তাহে দুই-চার দিন খুললেও অধিকাংশ ক্লিনিক প্রায় সময়ই থাকছে বন্ধ। দূরদূরান্ত থেকে সাধারণ রোগীরা সেবা নিতে এসে চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সপ্তাহে দুই-তিন দিন খোলা থাকলেও সিএইচসিপিরা নিয়মিত থাকেন না। দায়িত্ব পালন করেন অন্য ব্যক্তি। একইভাবে হোগলাপাশা ইউনিয়নের গোবিন্দপুর কেন্দ্রটিরও চিত্র একই রকম। সিএইচসিপি কৌশিক সপ্তাহে দুই-চার দিন কেন্দ্রে এলেও দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে মূল ফটকে তালা মেরে চলে যান।

এদিকে, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবায় বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানের কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবস্থা বাতিল করে প্রতিটি ইউনিয়নে চালু করা হচ্ছে ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’। এ নতুন ব্যবস্থার আওতায় সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ পাবেন। একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে এক প্যাকেজের আওতায় এনে প্রতি দুই মাস পরপর স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা চেকআপ করবেন।

গত ১১ জুন সচিবালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। তখন তিনি জানান, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে দেশের পাঁচটি জেলায় এই নতুন ব্যবস্থার পাইলটিং বা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারীর এই ঘোষণার পাশাপাশি উঠে আসে রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর প্রসঙ্গটিও।

কেকে/এলএ
আরও সংবাদ   বিষয়:  কমিউনিটি ক্লিনিক  

সর্বশেষ সংবাদ

অক্টোবরে শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন : তথ্য উপদেষ্টা
শেরপুরে অসহায় পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ
ভারী বর্ষণে রামুর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত, পৌঁছায়নি সরকারি সহায়তা
টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বান্দরবান, বাড়ছে সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি
নালিতাবাড়ীতে ২০ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেপ্তার ১

সর্বাধিক পঠিত

খাদ্য অধিদপ্তরের ফ্যাসিস্ট সেই নুপুরের বদলি বাতিল
গজারিয়ায় কিশোরী ধর্ষণ, প্রধান অভিযুক্ত সাজিদ গ্রেপ্তার
ব্রাজিলের হারে কুষ্টিয়ায় সমর্থকের আত্মহত্যা
ইটনায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
শ্রীমঙ্গলে অবহেলিত শতবর্ষী ভিক্টোরিয়া স্কুল মাঠ, আধুনিকায়নের দাবি এলাকাবাসীর
খোলাকাগজ স্পেশাল- এর আরো খবর
সর্বস্বত্ব প্রকাশক কর্তৃক সংরক্ষিত।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আলহাজ্ব মিজানুর রহমান
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭ দিলকুশা, সান মুন টাওয়ার, লেভেল ১৭,বাণিজ্যিক এলাকা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ ।
ফোন: ০২-৯৫৮৪১২৪-৫, মোবাইল: +৮৮০১৭৬২-৩৭৫২৬৮, ফ্যাক্স: ৯৫৮৪১২৬, ই-মেইল: bartamandhaka@gmail.com
ফলো করুন: