মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬,
২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
বেগম রোকেয়া
বিশ্বমঞ্চে সেঁজুতি সাহার রাইজিং স্টার অর্জন
নিজস্ব প্রতিবেদক
Publish: Tuesday, 21 April, 2026, 12:55 PM
ছবি: প্রতিবেদক

ছবি: প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য খাতে নিরলস গবেষণা, নিষ্ঠা আর মানবকল্যাণের প্রতি অঙ্গীকার-এই তিনের সম্মিলনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন ড. সেঁজুতি সাহা। সম্প্রতি তিনি সাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের মর্যাদাপূর্ণ ‘রাইজিং স্টার’ পুরস্কার অর্জন করেছেন। 

প্রথম বাংলাদেশি এবং দক্ষিণ এশীয় হিসেবে এই সম্মাননা পাওয়া শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের জন্যও এক গৌরবময় অর্জন। সেঁজুতি সাহার এই স্বীকৃতি মূলত তার দীর্ঘদিনের গবেষণা ও জনস্বাস্থ্য খাতে অসামান্য অবদানের ফল। 

সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, বিশেষ করে টিকা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়নে তার কাজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যেই প্রশংসিত হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশের বাস্তবতাকে সামনে রেখে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করার যে প্রচেষ্টা তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন, সেটিই তাকে এই সম্মাননার জন্য বিশেষভাবে যোগ্য করে তুলেছে। 

বর্তমান বিশ্বে যখন মহামারি ও সংক্রামক রোগের চ্যালেঞ্জ ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে, তখন সেঁজুতি সাহার মতো গবেষকদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়। তার কাজ শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা সরাসরি মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলছে। স্বাস্থ্য খাতে বৈষম্য কমানো, শিশু ও নারীর জন্য নিরাপদ স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিশ্চিত করা এসব ক্ষেত্রেও তার অবদান অনস্বীকার্য। 

একজন নারী হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই অর্জন বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। এখনো অনেক ক্ষেত্রে বিজ্ঞান ও গবেষণায় নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত। সেই প্রেক্ষাপটে সেঁজুতি সাহার এই সাফল্য তরুণীদের জন্য এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণা। এটি প্রমাণ করে-সুযোগ, পরিশ্রম এবং দৃঢ়তা থাকলে নারীরাও বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিতে সক্ষম।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত দীর্ঘদিন ধরে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সীমিত সম্পদ, জনবল সংকট এবং অবকাঠামোগত সমস্যার মাঝেও কিছু মানুষ নিজেদের দক্ষতা ও নিষ্ঠা দিয়ে পরিবর্তনের পথ দেখাচ্ছেন। সেঁজুতি সাহা তাদেরই একজন। তার অর্জন আমাদের মনে করিয়ে দেয়-এই দেশের মেধা ও সম্ভাবনা বিশ্বমানের, শুধু প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও সুযোগের। 

এই পুরস্কার ভবিষ্যতে আরও বড় কাজের অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে এটি বাংলাদেশের তরুণ গবেষক ও চিকিৎসকদের জন্যও একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে-নিজের কাজের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব।

সবশেষে বলা যায়, সেঁজুতি সাহার এই অর্জন শুধু একজন ব্যক্তির সাফল্য নয়; এটি বাংলাদেশের নারীশক্তির প্রতীক, যা নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে এবং তা বাস্তবায়নে সাহস জোগাবে। তার পথচলা অনেককে স্বাস্থ্য খাতে অবদান রাখতে উদ্বুদ্ধ করবে-এটাই প্রত্যাশা।

কেকে/ এমএস

সর্বশেষ সংবাদ

অক্টোবরে শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন : তথ্য উপদেষ্টা
শেরপুরে অসহায় পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ
ভারী বর্ষণে রামুর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত, পৌঁছায়নি সরকারি সহায়তা
টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বান্দরবান, বাড়ছে সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি
নালিতাবাড়ীতে ২০ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেপ্তার ১

সর্বাধিক পঠিত

খাদ্য অধিদপ্তরের ফ্যাসিস্ট সেই নুপুরের বদলি বাতিল
গজারিয়ায় কিশোরী ধর্ষণ, প্রধান অভিযুক্ত সাজিদ গ্রেপ্তার
ব্রাজিলের হারে কুষ্টিয়ায় সমর্থকের আত্মহত্যা
ইটনায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
শ্রীমঙ্গলে অবহেলিত শতবর্ষী ভিক্টোরিয়া স্কুল মাঠ, আধুনিকায়নের দাবি এলাকাবাসীর
বেগম রোকেয়া- এর আরো খবর
সর্বস্বত্ব প্রকাশক কর্তৃক সংরক্ষিত।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আলহাজ্ব মিজানুর রহমান
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭ দিলকুশা, সান মুন টাওয়ার, লেভেল ১৭,বাণিজ্যিক এলাকা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ ।
ফোন: ০২-৯৫৮৪১২৪-৫, মোবাইল: +৮৮০১৭৬২-৩৭৫২৬৮, ফ্যাক্স: ৯৫৮৪১২৬, ই-মেইল: bartamandhaka@gmail.com
ফলো করুন: