মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬,
২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বাংলা English

মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
ইতিহাস ও এতিহ্য
প্রাচীন ইসলামি ঐতিহ্য
স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন তিন গম্বুজবিশিষ্ট কেরামত আলী জামে মসজিদ
নিজস্ব প্রতিবেদক, মৌলভীবাজার
Publish: Friday, 27 February, 2026, 5:41 AM
ছবি: প্রতিনিধি

ছবি: প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ জেলার অন্যতম প্রাচীন ইসলামি স্থাপত্য ঐতিহ্যের নির্দশন ‘আলহাজ্ব কেরামত আলী জামে মসজিদ’। অপরূপ স্থাপত্যশৈলীর সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এ মসজিদটি কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ বাজারের কেরামত নগরে অবস্থিত। 

১৯৬৭ সালে মোগল স্থাপত্যরীতির অনুসরণে ঐতিহাসিক স্থাপত্যে নির্মিত এই মসজিদটি যুগ যুগ ধরে ইসলামি ঐতিহ্য বহন করে আসছে। এটি কমলগঞ্জের স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক গৌরবময় প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। 

মসজিদটির মূল ভবনের নকশা ও নির্মাণশৈলীতে মোগল আমলের স্থাপত্য বৈশিষ্ট ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মসজিদের প্রধান আকর্ষণ তিনটি গম্বুজ, যার মাঝখানের গম্বুজটি বৃহৎ ও রাজসিক, আর পাশের দুটি অপেক্ষাকৃত ছোট হলেও অতুলনীয় কারুকার্যে সজ্জিত। মসজিদের দেয়ালে ও গম্বুজে ব্যবহৃত পাথরগুলো ইরান থেকে আমদানি করা হয়েছে, সংমিশ্রণ রয়েছে উপমহাদেশী অপূর্ব শৈলীর- যা স্থাপত্যের সৌন্দর্যকে করেছে বহুগুণ বৃদ্ধি। চারটি সুউচ্চ মিনারে রয়েছে মার্বেল ও টেরাকোটার জটিল নকশা- যা স্থাপত্য প্রেমীদের জন্য এক দর্শনীয় উপহার। 

মসজিদের অভ্যন্তরে ঝকঝকে মোজাইক টাইলস, মার্বেল পাথর এবং দেয়ালে আরবি ক্যালিগ্রাফি মসজিদটিকে আরো নান্দনিক করেছে। মসজিদের ভেতরের অংশে রয়েছে ঝকঝকে মোজাইক টাইলস ও মার্বেল পাথরের ব্যবহার। ভেতরে প্যান্ডেল আকৃতির ছাঁদ এবং দেয়ালে কোরআন শরিফের আয়াত সম্বলিত কারুকার্য মসজিদটির আভিজাত্য ও পবিত্রতা ফুটিয়ে তুলেছে। 

মসজিদের সঙ্গে রয়েছে একটি বিশাল পুকুর, সুপরিকল্পিত ঘাট, আধুনিক অজুখানা এবং ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য পৃথক আবাসন কোয়ার্টার। নামাজ পড়ার পর মুসল্লিরা পুকুরপাড়ে বসে প্রশান্তির সময় কাটাতে পারেন। এসব সুযোগ-সুবিধা মসজিদটিকে করে তুলেছে একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক স্থাপনা। মসজিদের ভেতর-বারান্দা ও বাহিরে মিলে প্রায় এক হাজার মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করতে পারেন। বিশেষত জুমআর দিন ও ধর্মীয় উৎসবগুলোতে মসজিদটি হয়ে ওঠে একটি প্রাণবন্ত ধর্মীয় মিলনমেলা। 

জানা যায়, মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন কমলগঞ্জ উপজেলার বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মো. কেরামত আলী। তিনি নিজের জমি দানের মাধ্যমে উপজেলায় বহু মসজিদ-মাদরাসা, স্কুলসহ বিভিন্ন জনকলণ্যামূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন। দানবীর কেরামত আলী কেবল একজন ধর্মপ্রাণ মানুষই ছিলেন না- ছিলেন সমাজ উন্নয়নে নিবেদিত প্রাণ। তার উদ্যোগেই মোগল আমলের শৈলী ও স্থাপত্য নকশা অনুসরণ করে মসজিদটি নির্মিত হয়। পরবর্তীতে তার নামানুসারে মসজিদের নামকরণ করা হয় ‘আলহাজ্ব কেরামত আলী জামে মসজিদ’। 

উপজেলার বাসিন্দা কমলগঞ্জ একতা সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি হাফেজ মাওলানা হিফজুর রহমান ফাহাদ বলেন, ‘মোগল আমলে নির্মিত মসজিদগুলোর সঙ্গে এই মসজিদের স্থাপত্যশৈলীর বেশ মিল পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক স্থাপত্যে নির্মিত এই মসজিদটি আমাদের উপজেলার গর্ব। মসজিদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশ যেন মুসল্লিদের জন্য আত্মিক প্রশান্তির কারণ। অনেক মানুষ পুরোনো মসজিদটি দেখতে আসেন। কেউ ছবি তোলেন, আবার কেউ ভিডিও করেন।’ 

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘মসজিদটি কমলগঞ্জ উপজেলার অন্যতম ঐতিহ্য। এটি মোঘল স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন। মসজিদের কারণে এলাকার অন্য রকম একটা পরিচিতি আছে। এই মসজিদের জমিদাতা ও প্রতিষ্ঠা ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দানবীর ব্যক্তি আলহাজ্ব মো. কেরামত আলী। তিনি এলাকায় ধর্মীয় ও সমাজের কল্যাণে বহু প্রতিষ্ঠান তৈরি করে গেছেন। তার অবদান ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষা লিখে রাখার মতো। তিনি ছিলেন সমাজ উন্নয়নে নিবেদিত প্রাণ।’ 

এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি ফারুক মিয়া বলেন, ‘পুরোনো এই মসজিদটি ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী হয়ে আজও গৌরবের সঙ্গে টিকে আছে। ছোটবেলা থেকে মসজিদটি যেভাবে দেখেছি, এখনো সেভাবেই আছে। টুকটাক সংস্কার হলেও মসজিদটির কাঠামোতে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রতিদিনই অনেকে মসজিদটি দেখতে আসেন। বিশেষ করে শুক্রবার অনেক দূরের মানুষও এখানে নামাজ পড়তে আসেন। তবে জুমআর দিনে মুসল্লিদের স্থান সংকুলান হয় না, মসজিদটি সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।’ 

মসজিদ কমিটি ও স্থানীয়রা মসজিদের অবকাঠামো ঠিক রেখে মসজিদ সংস্কার এবং সম্প্রসারণের জন্য সরকারের পৃষ্টপোষকতা কামনা করেছেন। 

স্থানীয়রা মনে করেন, ‘কেরামত আলী জামে মসজিদ এখন শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি উপজেলার  একটি সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গৌরবের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।’

কেকে/বি

আরও সংবাদ   বিষয়:  স্থাপত্যশৈলী   তিন গম্বুজবিশিষ্ট   মসজিদ  

সর্বশেষ সংবাদ

অক্টোবরে শুরু স্থানীয় সরকার নির্বাচন : তথ্য উপদেষ্টা
শেরপুরে অসহায় পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ
ভারী বর্ষণে রামুর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত, পৌঁছায়নি সরকারি সহায়তা
টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত বান্দরবান, বাড়ছে সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি
নালিতাবাড়ীতে ২০ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেপ্তার ১

সর্বাধিক পঠিত

খাদ্য অধিদপ্তরের ফ্যাসিস্ট সেই নুপুরের বদলি বাতিল
গজারিয়ায় কিশোরী ধর্ষণ, প্রধান অভিযুক্ত সাজিদ গ্রেপ্তার
ব্রাজিলের হারে কুষ্টিয়ায় সমর্থকের আত্মহত্যা
ইটনায় পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে কুপিয়ে হত্যা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
শ্রীমঙ্গলে অবহেলিত শতবর্ষী ভিক্টোরিয়া স্কুল মাঠ, আধুনিকায়নের দাবি এলাকাবাসীর
ইতিহাস ও এতিহ্য- এর আরো খবর
সর্বস্বত্ব প্রকাশক কর্তৃক সংরক্ষিত।
সম্পাদক ও প্রকাশক : আলহাজ্ব মিজানুর রহমান
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭ দিলকুশা, সান মুন টাওয়ার, লেভেল ১৭,বাণিজ্যিক এলাকা, মতিঝিল, ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ ।
ফোন: ০২-৯৫৮৪১২৪-৫, মোবাইল: +৮৮০১৭৬২-৩৭৫২৬৮, ফ্যাক্স: ৯৫৮৪১২৬, ই-মেইল: bartamandhaka@gmail.com
ফলো করুন: